দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ‘স্লেন্ডার সানফিশ’। রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে মাছটি মহিপুর মৎস্য বন্দরের শাহীন এন্টারপ্রাইজ আড়তে নিয়ে আসা হলে এক নজর দেখতে ভিড় করেন স্থানীয়রা। তবে মাছটি বিষাক্ত হতে পারে এমন আশঙ্কায় এটি কিনতে আগ্রহ দেখাননি কেউ।
মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Ranzania laevis। প্রায় ২ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের অদ্ভুত আকৃতির মাছটি বন্দরে নিয়ে আসার পর স্থানীয় মানুষ ও মাছ ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অনেকেই জানান, এমন মাছ তাঁরা আগে কখনো দেখেননি।
জেলেরা জানান, মাছটির আকৃতি ও গঠন অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। এ কারণে প্রথমে তাঁরা মাছটির পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেননি। এর বৈজ্ঞানিক পরিচয় সম্পর্কেও তাঁদের কোনো ধারণা ছিল না। মাছটি বিষাক্ত হতে পারে—এমন আশঙ্কায় কেউ এটি কিনতে চাননি।
স্থানীয় জেলে শরীফুল্লাহ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাগরে মাছ শিকার করছি। জালে বিভিন্ন ধরনের মাছ ধরা পড়লেও এমন মাছ আগে কখনো দেখিনি। সমুদ্রে যে কত ধরনের মাছ আছে, সেটা আল্লাহ ভালো জানেন।
শাহীন এন্টারপ্রাইজের মালিক শাহিন আড়তদার বলেন, অন্যান্য মাছের সঙ্গে জালেই মাছটি ধরা পড়ে। বন্দরে নিয়ে আসার পর এটি দেখতে অনেক মানুষ ভিড় করেন। তবে মাছটি বিষাক্ত হতে পারে—এই ভয় থেকে কেউ কিনতে চাননি।
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, মাছটির বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য দেখে প্রাথমিকভাবে এটিকে স্লেন্ডার সানফিশ (Ranzania laevis) বলে মনে হচ্ছে। এটি সাধারণ বাণিজ্যিক সামুদ্রিক মাছের মতো নয়; মূলত খোলা সমুদ্রের একটি মহাসাগরীয় প্রজাতি। অনেক সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে মাছ ধরার জালে বাইক্যাচ হিসেবেও এ ধরনের মাছ উঠে আসে। বঙ্গোপসাগরেও এ প্রজাতির উপস্থিতির তথ্য রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের তুলনামূলকভাবে কম দেখা সামুদ্রিক প্রাণীর উপস্থিতি বঙ্গোপসাগরের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। তাই এমন মাছ পাওয়া গেলে শুধু বাজারজাত না করে কোথায় ও কত গভীরতায় মাছটি ধরা পড়েছে, কী ধরনের জালে ধরা পড়েছে এবং এর দৈর্ঘ্য ও ওজনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করা উচিত। এসব তথ্য বঙ্গোপসাগরের জীববৈচিত্র্য, প্রজাতির বিস্তৃতি এবং সামুদ্রিক পরিবেশে ঘটতে থাকা পরিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ধারণা দিতে পারে।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, বঙ্গোপসাগর জীববৈচিত্র্যে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বিভিন্ন সময়ে জেলেদের জালে নানা ধরনের বিরল ও অল্প পরিচিত সামুদ্রিক প্রজাতির মাছ ধরা পড়ছে। স্লেন্ডার সানফিশ ধরা পড়ার ঘটনাটিও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণা ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হতে পারে।
তিনি বলেন, এ ধরনের বিরল প্রজাতির মাছ ধরা পড়লে জেলেদের দ্রুত মৎস্য বিভাগকে জানানো উচিত। এতে মাছটির সঠিক পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
এমএস/